জামায়াতে ইসলামির মতাদর্শগত সীমাবদ্ধতা

লিখেছেনঃ আ. আল মামুন,  শিক্ষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের

কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত মইদুল ইসলামের গবেষণাগ্রন্থ ‘লিমিট্স অব ইসলামিজম : জামায়ত-ই-ইসলামি ইন কনটেম্পোরারি ইন্ডিয়া অ্যান্ড বাংলাদেশ ’ অ্যাকাডেমিক পরিসরে ও পণ্ডিতসমাজে নিশ্চিতভাবেই বিশেষ আগ্রহ জন্ম দেবে৷। প্রথমত এ কারণে যে , নয়া উদারবাদের চাপ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে ইসলামপন্থা , বিশেষত যেটাকে মইদুল ‘জামায়াতে ইসলামপন্থা ’ আখ্যায়িত করেছেন , কোনও বিকল্প দর্শন হাজির করতে ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে কি না , নাকি ইসলামপন্থা অন্তর্গত ভাবেই অসঙ্গতিতে ভরা তিনি সেই উত্তর খুঁজেছেন। এ কারণেও যে , ইসলামপন্থা নিয়ে গবেষণা ও আলোচনার বেশির ভাগটাই পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। ভারত ও বাংলাদেশে ইসলামপন্থার মতাদর্শ ও চর্চা নিয়ে গুরুত্ববহ কোনও কাজই হয়নি। যদিও বিশ্বের মুসলমান জনগোষ্ঠীর ২০ ভাগ বাস করেন এই দু’টি দেশে। এই সব বিবেচনায় , মইদুল ইসলামের গবেষণাগ্রন্থটি বিশেষ অভাব পূরণ করেছে ; এবং বলতেই হবে এ কাজের মাধ্যমে তিনি বৈশ্বিক পরিসরে ইসলামপন্থা নিয়ে গবেষণারত অগ্রসর চিন্তকদের মাঝে স্থান করে নিয়েছেন।

তবে বাংলাদেশে কেবল পণ্ডিতমহলে নয় , রাজনীতি-সক্রিয় সর্ব মহলেই আগ্রহ ও আলোচনা চোখে পড়ছে। এমন এক সময়ে বইটি প্রকাশিত হয়েছে যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান অধ্যুষিত বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ নানা অছিলায় নানা রূপে হাজির হচ্ছে। জনপরিসর ভরে উঠেছে রাজনৈতিক পন্থা ও পদ্ধতির দ্বন্দ্বে। জামায়েতে ইসলামি নামের রাজনৈতিক দলটিও বর্তমানে সঙ্কটময় রূপান্তরের কাল অতিক্রম করছে। বাংলাদেশ আন্দোলনের বিরোধিতাকারী এবং মুক্তিযুদ্ধকালে গণহত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী এই দলটি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে কেবল পুনঃপ্রতিষ্ঠিতই হয়নি ,তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দল হয়ে উঠেছে , অর্থনৈতিক ভাবে প্রবল হয়েছে , এমনকী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতারও শরিক হয়েছে। আর , ইদানীং যুদ্ধাপরাধের দায়ে গোলাম আজমসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা দণ্ড পেয়েছেন , আরও অনেকের বিচার চলছে ; রাজনৈতিক দল হিসেবেও সংগঠনটির বৈধতা আদালতে বিচারাধীন। অর্থাৎ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে এক টান টান উত্তেজনাকর সময়ে বইটি প্রকাশিত হয়েছে৷

ফলত , মইদুল কী বলতে চেয়েছেন তা নিয়ে অনেকেই জিজ্ঞাসু হয়ে আছেন। তিনি গ্রন্থের শুরুতেই ইসলামপন্থা ও এর উত্থানের ইতিহাস , নয়া উদারবাদ , জাতি -রাষ্ট্র , রাজনৈতিক মতাদর্শ ইত্যাদি ধারণা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে নিয়েছেন। এও পরিষ্কার করে নিয়েছেন যে , বিশ্বাসের জগত ও রাজনীতির জগতকে আলাদা করার সনাতন অভ্যাস থেকে অনেক গবেষকের মতো তিনিও সরে এসেছেন। ইতোপূর্বে ধারণা করা হত, মতাদর্শ সেকুলার ব্যাপারস্যাপার এবং সেহেতু ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রাইভেট পরিসরে ঠেলে দাও। মইদুল বলছেন, মতাদর্শ নিয়ে সাম্প্রতিক ধ্যানধারণা অনুযায়ী একটা সর্বাত্মক ভুবনদৃষ্টির কারণে ইসলামপন্থাকে অবশ্যই আধুনিক রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে গণ্য করতে হবে। ব্যাপারটাকে তিনি এই ভাবে হাজির করেছেন, অ্যারিস্টটল আমাদের শিখিয়েছেন , ‘মানুষ রাজনৈতিক প্রাণী।’ এই বিবেচনাতেই মানুষের সমবায়ে গঠিত ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বস্তুত রাজনৈতিক।

কিন্তু ইসলামপন্থী কে? ইসলাম ধর্মের সকল মানুষই কি ? ইসলামপন্থী বা ইসলামিস্ট বলে মইদুল তাঁদেরকেই চিহ্নিত করেছেন যাঁরা মনে করেন ইসলাম পৃথিবীর তাবত্ মানুষের জন্যই একটা পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান এবং দাবি করেন যে , এটি এমনই এক রাজনৈতিক মতাদর্শ যার উদ্দেশ্য শরিয়তভিত্তিক ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম। অর্থাৎ, ইসলামপন্থীদের কাছে ইসলাম কেবল ধর্ম নয় , রাজনৈতিক মতাদর্শ।

ইসলামপন্থীদের তিনটি ভাগে মইদুল ভাগ করেন : মডারেট ইসলামিস্ট , মেইনস্ট্রিম ইসলামিস্ট এবং এক্সট্রিমিস্ট ইসলামিস্ট। এ বিবেচনায়, জামায়েত ইসলামিকে মডারেট ইসলামিস্ট দল হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, যেমন করা যায় মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডকে। মাহমুদ মাদানির সঙ্গে একমত হয়ে তিনি বলেন, ইসলামপন্থীর জন্ম ঔপনিবেশিক আধুনিকতার অন্তরে এবং পশ্চিমের সাপেক্ষে।

ড. মইদুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক, পটিকাল সাইন্স, সেন্টার ফর স্টাডিস ইন সোশ্যাল সাইন্স, কলকাতা

ইসলামপন্থাকে মুসলমান সমাজগুলোতে ইউরো-আমেরিকান আধুনিকতা চর্চার ফলশ্রীতিতে তৈরি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা যায়। পশ্চিমি আধুনিকতা ও পুঁজিবাদের বিকল্প হিসেবে ইসলামপন্থীরা ‘ইসলামি আধুনিকতা বা ‘ইসলামি রাষ্ট্র’র কথা বলেন, অথচ সে আধুনিকতা বা রাষ্ট্রকল্প পশ্চিমের কাছে ধার-করা ধারণা ছাড়া কিছুতেই সম্ভব হয়ে ওঠে না পাবলিক পরিসরে ধর্মের রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ে মইদুলের কোনও আপত্তি , সেহেতু, নেই। তিনি বরং রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে ইসলামপন্থা, বিশেষত জামায়াতে ইসলামপন্থার কড়িবর্গা মাপজোক করে দেখেছেন। আর, এই বিচারের জন্য তিনি উদারনৈতিকতার পথে ক্রমাগত হাঁটতে থাকা সাম্প্রতিক ভারত ও বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামির মতাদর্শ ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করেছেন।

দেশে দেশে ‘ইসলামি রাষ্ট্র’ কায়েমের ইউটোপিয়া নিয়ে গড়ে ওঠা আন্দোলনগুলোর অন্যতম তত্ত্বগুরু আবুল আলা মওদুদির নেতৃত্বে ১৯৪৭ -এর পূর্ববর্তী ব্রিটিশ-ভারতীয় উপমহাদেশে গড়ে ওঠা এই রাজনৈতিক দলটি ত্রিখণ্ড মহাভারতে নিজেও ত্রিধাবিভক্ত হয়েছে। মইদুল দেখতে পাচ্ছেন,

ভারত ও বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামির চলন-বলন আলাদা, বলা চলে বিপরীতমুখী। ভারতে জামায়াতে ইসলামি নিম্নবর্গীয় চরিত্রের হলেও বাংলাদেশে তারা ক্ষমতাচক্রেরই অংশীদার, ভারতে নয়া উদারপন্থার বিরোধী হলেও বাংলাদেশে সহচর এমনকী বলা চলে নয়া উদারবাদের সুবিধাভোগী। ভারতে সেকুলার জাতীয়তাবাদী ও বামপন্থীরা জামায়াতে ইসলামির মিত্রপক্ষ, অন্য দিকে বাংলাদেশে সেকুলার জাতীয়তাবাদী ও বামপন্থীরা তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ। মইদুল দাবি করেন, এইসব বৈপরীত্য মূলত জামায়াতের মতাদর্শিক অসঙ্গতিরই প্রতিফলন।

ভারতে মুসলমানদের অবস্থান সমাজের সবচেয়ে নিচুতলায়, দলিত ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাতারে। নয়া উদারবাদী পদক্ষেপগুলোর কারণে মুসলমানদের অবস্থা আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। ফলে, জামায়াত বামপন্থী ও দলিত বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে একই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে নয়া উদারবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। কেবল মুসলমান নয়, দলিত নিম্নবর্গীয় মানুষদেরও স্বার্থে তাদের অবস্থান ক্ষমতাগোষ্ঠীর বিপক্ষে। এমনকী, জামায়াতের ২৫০০০ বা তারও বেশি সদস্য ভিন্ন ধর্মের মানুষ। ফলে, জামায়াতের ‘ইসলামি উম্মাহ’ ধারণা, যেখানে অমুসলিমরা বাদ পড়ে যায় এবং ভারতের বঞ্চিত সকল জনগণের হয়ে তাদের রাজনীতি বৈপরীত্যময় অবস্থানে গিয়ে পৌঁছায়।

আবার, সংখ্যালঘু ‘অপর ’ হিসেবে মুসলমানদের বিশেষ স্বার্থ রক্ষা করতে জামায়াত ‘হিন্দুত্ববাদ ’কেই প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে শনাক্ত করতে বাধ্য হয়। অন্য দিকে তারা যে পাশ্চাত্যবিরোধী সেই পাশ্চাত্য থেকে আসা সেকুলারপন্থাকেই নিজেদের পথ হিসেবে গ্রহণ করে নেয় , সেকুলার ও বামপন্থী দলগুলো তাদের মিত্র হয়ে ওঠে। এমনকী ইসলামপন্থী রাজনীতির প্রধান গন্তব্য ‘ইসলামি রাষ্ট্র ’ নামের কল্পরাজ্য তৈরির বাসনাও ত্যাগ করতে হয়।

অন্য দিকে, সংখ্যাগুরু মুসলমানের বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামির কাছে ‘ইসলামি রাষ্ট্র’ কায়েম করা এক প্রবল মতাদর্শিক প্রবচন। অন্যান্য ইসলামপন্থী দলের মতোই জামায়াত বাংলাদেশে শরিয়তভিত্তিক ‘খাঁটি’ ‘ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা’ কায়েম করতে চায়। অনুসারীদের কাছে পুঁজিবাদের বিপরীতে এই স্বপ্ন বিলি করে। অথচ, পুঁজিবাদের এই পর্যায়ের নয়া উদারবাদী প্রকল্পকেই তারা বাংলাদেশে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। আর এ কারণেই নয়া উদারপন্থা সমর্থক প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামি লিগ ও বিএনপি’র সীমা ছাড়িয়ে তারা এগোতে পারে না, কোনও বিকল্প রাজনৈতিক পন্থাও জনগণের সামনে হাজির করতে পারে না। নির্বাচনে তাদের জনসমর্থন ৩ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খায়। বাংলাদেশে জনস্বার্থ পরিপন্থী নয়া উদারবাদী পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে জামায়াত সোচ্চার হয় না, বরং সুবিধা ভোগ করে। কিন্তু নয়া উদারবাদ উপজাত সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশ যেমন নাস্তিকতা, যৌনতা ইত্যাদি নিয়ে মাঠ গরম করে রাখে, নীতিপুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। মইদুল এ সব বৈপরীত্যকেও তুলে ধরে দাবি করেছেন, এর উৎস নিহিত আছে মূলত দলটির মতাদর্শিক অসঙ্গতির মধ্যে।

মতাদর্শিক অসঙ্গতির কারণে জামায়াত কোনও বিকল্প রাজনৈতিক পন্থাও জনগণের সামনে হাজির করতে পারে না। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামি লিগ ও বিএনপি’র সীমা ছাড়িয়ে তারা এগোতে পারে না।  

সর্বোপরি জামায়াতে ইসলামি এবং এরকম ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো দাবি করে যে , সকল ‘মনুষ্য-তৈরি মতাদর্শ’ এবং ধর্ম ব্যর্থ হবে; কারণ সেগুলো মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলোর (অসাম্য ও অবিচার ) কোনও সমাধান দিতে পারে না, কিন্তু ‘মুক্তিদায়ী মতাদর্শ’ হিসেবে ইসলাম সকল সমাধান দিতে পারে। মওদুদি বলতেন ইসলামপন্থা সমাজতন্ত্রও নয় পুঁজিবাদও নয় বরং মধ্যপন্থা। কিন্তু মইদুল দেখতে পান,

‘মধ্যপন্থা’ বলে তিনি এবং অন্যান্য তাত্ত্বিকরা যে ইসলামি রাষ্ট্রকল্প খাড়া করেছেন তা বস্তুত পুঁজিবাদেরই অধীন, যাকে বড়োজোর কল্যাণমূলক ‘নিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদ’ আখ্যা দেওয়া চলে। মার্কেট হবে নিয়ন্ত্রিত, কিন্তু কিছুতেই পুঁজিবাদের বিরুদ্ধ নয়। ব্যক্তিমালিকানা ও মজুরি শ্রম সমান ভাবেই সচল থাকবে। সুদের বিরুদ্ধে কথা বললেও লভ্যাংশ নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই জামায়াতের। কিন্তু মার্কস আমাদের দেখিয়ে গেছেন, সুদ ও লভ্যাংশ দুইই উদ্বৃত্ত তৈরি করে- যা পুঁজিবাদের প্রাণভোমরা। উপরন্তু নিরঙ্কুশ আধিপত্যবাদী সেই রাষ্ট্রে নারী, বিধর্মী এবং অন্যান্য অপরদের অবস্থান আবশ্যিকভাবেই দ্বিতীয় কাতারে। এও এক গুরুতর অসঙ্গতি বটে।

জামায়াতে ইসলামির মতাদর্শগত সীমাবদ্ধতা, বাংলাদেশ ও ভারতে দলটির রাজনৈতিক শত্রু ও মিত্রপক্ষ নির্ধারণের বৈপরীত্য এবং বিশেষত ভারতে নয়া উদারবাদের বিরোধিতা অথচ বাংলাদেশে সহচরী ভূমিকা মইদুল যথার্থই শনাক্ত করতে পেরেছেন।

তবে, জামায়াতে ইসলামির মতাদর্শ ও কর্মকাণ্ড বিচার করেই বিশ্বব্যাপী বৈচিত্রময় ইসলামপন্থী রাজনীতির সীমানা দেগে দেওয়া যায় কি ? বইটির শিরোনামের প্রথম অংশে সেই রকম প্রস্তাবনা থাকলেও আমরা উত্তর পাই কেবল জামায়াতে ইসলামি প্রসঙ্গে। তা ছাড়া, সীমানাভাঙা বর্তমানে কেবল ইসলামপন্থা না , সঙ্কটে আছে সর্বজনমান্যতা দাবিকারি সকল মতাদর্শই, এমনকী ‘রাজনীতি’ বলে এত কাল আমরা যে ধারণাটি চিনতাম তাও।

মইদুল ইসলাম বার বার ‘প্রগতিশীল’ রাজনীতির কথা বলেছেন, যা বইটির শেষভাগে স্পষ্ট হয় : পশ্চিমের বিপরীতে প্রতিবাদী মতাদর্শ হিসেবে ইসলামপন্থাকে অনেকেই উদ্যাপন করেন। কিন্তু এই বিপরীত ক্যাম্পের কোনও একটিকে আস্থা রাখার বদলে বরং আমাদের উচিত এমন এক সমালোচনাত্মক বুদ্ধিবৃত্তিক ডিসকোর্স গড়ে তোলা যা একইসঙ্গে প্রাচ্যবাদ, নয়াউদারবাদ, এবং সর্বোপরি ইসলামপন্থার আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে।

কারণ, মুক্তিদায়ী আদর্শের কথা বললেও ইসলামপন্থা এমন এক রাজনৈতিক প্রকল্প খাড়া করে যা বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় চলমান শোষণ -পীড়নকেই ভিন্ন নামে সচল রাখতে চায়।

কিন্তু সেই সমালোচনাত্মক ডিসকোর্স গড়ে ওঠার জন্য বোধ হয় আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশের শাহবাগ আন্দোলন, ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলন কিংবা আরব বসন্ত বিচার করলে আমরা বলতে পারি, পুরাতন সকল রাজনৈতিক মতাদর্শই ‘এমটি সিগনিফায়ার’ হয়ে উঠেছে, যেমন অর্থহীন হয়ে উঠেছে খোদ গণতন্ত্র ধারণা। আমরা এমন এক সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি যার রাজনৈতিক ভাষা এখনও অঙ্কুরোদগমের অপেক্ষায়।

(সোর্সঃ আ-আল মামুন, শুধু জামায়াতের কর্মকাণ্ড দিয়েই বৈচিত্রময় আবিশ্ব ইসলামপন্থার বিচার সম্ভব? এই সময়, ২৭ মার্চ ২০১৬) বইটির পিডিএফ ভার্সন

প্রাসঙ্গিক পোষ্টঃ 

ইসলামপন্থা ও খন্ডিত ইতিহাস পাঠের সংকট

মুসলিম দুনিয়া: প্রচলিত ধারণা ও ভিন্নমত

The Idea of the Muslim World: A Global Intellectual History

থিওলজি পাঠের সংকট

বামপন্থা, ধর্মতত্ত্বীয় দর্শন ও ইসলামপন্থার পর্যালোচনা বিষয়ক আরো কিছু পোষ্ট

Facebook Comments

Opinion matters, Please share your opinion