মার্ক্সের ভুল অনুমান ও বাংলাদেশে সমাজতন্ত্রের বিপর্যয়কর অভিজ্ঞতা

এই লেখাটি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ ও সাবেক আমলা ড. আকবর আলী খানের লেখা সাম্প্রতিক বইয়ের ‘সমাজতন্ত্র : পথের শেষ কোথায়?’ অধ্যায় থেকে নেয়া হয়েছে।  বইয়ের  ঐ অধ্যায়ে সমাজতন্ত্রের তাত্ত্বিক বিবর্তন’ উপ-শিরোনামে একটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। মূল লেখাটি আরো ব্যাপক। সেখান থেকে সংক্ষেপিত। 

পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের পার্থক্য নিয়ে একটি চুটকি প্রচলিত আছে। প্রশ্ন করা হয়, পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে তফাত কী? উত্তর হলো : পুঁজিবাদে মানুষ মানুষকে শোষণ করে। সমাজতন্ত্রে এর উল্টোটি ঘটে। ‘মানুষ মানুষকে শোষণ করে’ বাক্যকে উল্টালে দাঁড়ায় ‘করে শোষণ মানুষকে মানুষ’। যথা পূর্বং তথা পরং। সারকথা হলো, সমাজতন্ত্র আর পুঁজিবাদের মধ্যে কোনো তফাত নেই, পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র কোনোটিই মানুষকে স্বপ্নের রাজ্যে পৌঁছে দিতে পারবে না।  (ড. আকবর আলী খান, অবাক বাংলাদেশঃ বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি, ২০১৭)

দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে আজ বাম ও ডান ঘরানার অর্থনীতিবিদদের অনেকেই ওপরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হবেন। কিন্তু গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে বাংলাদেশের অজেয় মুক্তিসেনারা যখন দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য অস্ত্র হাতে তুলে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তখন কিন্তু সমাজতন্ত্রের এ মূল্যায়নের সঙ্গে বামের কোনো অর্থনীতিবিদই একমত হতেন না।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর চার দশক ছিল সমাজতন্ত্রের অব্যাহত জয়যাত্রার লগ্ন। রাশিয়া, চীন, পূর্ব ইউরোপ, কিউবা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। ভিয়েতনামে পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে মহাকাব্যিক সংঘর্ষে পৃথিবীর শোষিত মানুষের সমর্থন নিয়ে সমাজতন্ত্র জয়লাভ করে। কিন্তু সমাজতন্ত্রের এ বিজয় টিকে থাকতে পারেনি। আশির দশকের শেষ দিকে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধসে পড়ে। যারা একসময় সমাজতন্ত্রের অনিবার্যতা নিয়ে তত্ত্বের জাল বুনেছেন, তাঁদের কেউই সমাজতন্ত্রের দ্রবীভবন নিয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য বক্তব্য এখন পর্যন্ত দেননি।

ড. আকবর আলী খান

সমাজতন্ত্রের সোনালি যুগের তাত্ত্বিকেরা বিশ্বাস করতেন। যে সমাজতন্ত্রের জয় অবশ্যম্ভাবী শুধু এ জন্য নয় যে সমাজতন্ত্র মানুষের জন্য কল্যাণকর; সমাজতন্ত্রের জয় ইতিহাসের অমোঘ বিধান। ইতিহাসের প্রতিটি স্তরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ দেখা যায় এবং এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নতুন শক্তি জয়লাভ করে। পুঁজিবাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলে সমাজতন্ত্রের আবির্ভাব অবশ্যম্ভাবী। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কার্ল মার্ক্স প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে পুঁজিবাদের তিরোধান এবং সমাজতন্ত্রের অভ্যুথান অনিবাৰ্য। চারটি অনুমানের ভিত্তিতে কার্ল মার্ক্স এই ভবিষ্যদ্বাণী করেন।

কার্ল মার্ক্সের প্রথম অনুমান হলো, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিকশ্রেণি সমাজব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন। প্রাক পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসমূহ থাকত শ্রমিকশ্রেণির নিয়ন্ত্রণে, যদিও তারা সব সময় এর মালিক হতেন না। কিন্তু পুঁজিবাদী কারখানায় সব উপকরণ থাকে মালিকের নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে শ্রমিকেরা উৎপাদনব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই বিচ্ছিন্নতা বা alienation শ্রমিকশ্রেণির মধ্যে পুঁজিবাদের প্রতি তীব্র ঘৃণার সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয়ত, কার্ল মার্ক্স বিশ্বাস করতেন যে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিকশ্রেণি নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হচ্ছে। মার্ক্সের মতে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার একটি অবশ্য শর্ত হলো শ্রমিকশ্রেণিসমূহের ক্রমবর্ধ্মান দুর্দশায়নের সূত্র  (Law of immiserization of the working classes)। নিরন্তর কারিগরি পরিবর্তনের ফলে শ্রমিকের চাহিদা ক্রমাগত কমছে। বেকার সমস্যা প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। শ্রমিকদের মজুরির হার কমছে। বিরামহীন প্রতিযোগিতায় মুনাফার হারও কমছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের ওপর শোষণের মাত্রা বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান দুৰ্দশায়নের ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে যে শ্রমিকদের বিদ্রোহ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

তৃতীয়ত, শিল্পবিপ্লবের আগে শ্রমিকশ্রেণি ঘরে বসে উৎপাদন করত। তারা সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকত। শিল্পবিপ্লবের পর শ্রমিকেরা পল্লি অঞ্চল থেকে উৎপাটিত হয়ে ছিন্নমূল মানুষ হিসেবে ভিড় জমিয়েছেন শহরের কারখানাগুলোতে। তাই পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সর্বহারা শ্রেণির একটি বড় অংশ অতি ক্ষুদ্র অঞ্চলে জমায়েত হয়। এর ফলে সর্বহারাদের রাজনৈতিকভাবে সংঘটিত করা অনেক সহজ হয়ে গেছে।

চতুর্থত, শুধু শোষণের মাত্রা বাড়লেই শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দেখা দেয় না। শোষিতদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার জন্য রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন রয়েছে। ইতিহাসের এই পর্যায়ে কমিউনিষ্ট পার্টির অভ্যুদয় ঘটেছে। এই কমিউনিষ্ট পার্টি বিপ্লবের পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করবে। সুতরাং, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শোষিতের বিদ্রোহ অবশ্যই সফল হবে।

বিংশ শতাব্দীর একপর্যায়ে মনে হয়েছে যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচ্যুতি দেখা দিলেও ইতিহাসের মূলধারা মার্ক্সের প্রক্ষেপিত পথ ধরেই এগোচ্ছে। দুৰ্ভাগ্যবশত বিংশ শতাব্দীতে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি ও গভীরতা নিয়ে। দুর্ভাগ্যক্রমে এর পরিসমাপ্তি ঘটেছে প্রহসনে। এই অবস্থাতে মার্ক্সের তত্ত্বের পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এখানে তিন ধরনের মতবাদ দেখা যাচ্ছে।

বিংশ শতাব্দীতে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি ও গভীরতা নিয়ে। দুর্ভাগ্যক্রমে এর পরিসমাপ্তি ঘটেছে প্রহসনে।

একধরনের মতবাদে বিশ্বাস করে প্রাচীনপন্থী কমিউনিস্টরা। তারা মনে করে না যে সমাজতন্ত্র হেরে গেছে। তারা মনে করে, সমাজতন্ত্রের সাময়িক পরাজয় ঘটেছে। তবে পরবর্তী পর্যায়ে সমাজতন্ত্র জয়লাভ করবে। কাজেই তারা বিশ্বাস করে যে মার্ক্সের বিশ্লেষণ অভ্রান্ত এবং এর কোনো সংশোধনের প্রয়োজন নেই। যারা এই মতবাদে বিশ্বাস করে, তাদের সঙ্গে যুক্তির ভিত্তিতে তর্ক করার কোনো জো নেই।

দ্বিতীয় ঘরানার বামপন্থীরা বিশ্বাস করে যে মার্ক্সের ব্যাখ্যা অভ্রান্ত; কিন্তু বিংশ শতাব্দীর সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন মার্ক্সের অপব্যাখ্যার ওপরে গড়ে ওঠেছিল। এ ধরনের ব্যাখ্যা দেখা যাবে লর্ড মেঘনাদ দেশাইয়ের Marx’s Revenge গ্রন্থে। এই তত্ত্ব অনুসারে মার্ক্স পুঁজিবাদের অসাধারণ উৎপাদনশীলতায় বিশ্বাস করতেন এবং মার্ক্স মনে করতেন, যতক্ষণ পর্যন্ত পুঁজিবাদ উৎপাদনশীলতায় থাকবে, তত দিন সমাজতন্ত্রের জয় হবে না। মার্ক্সের মতে, সমাজতন্ত্র তাই আত্মপ্ৰকাশ করবে: সেসব দেশে, যেখানে পুঁজিবাদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অথচ বিংশ শতাব্দীতে রাশিয়া, চীন প্রভৃতি দেশে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সামন্ততান্ত্রিক সমাজে পুঁজিবাদ ছিল একটি দুর্বল শক্তি। মার্ক্সের বিশ্লেষণে এ ধরনের দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়।

বিংশ শতাব্দীতে মার্ক্সের ব্যাখ্যার সঙ্গে আরও একটি তত্ত্ব যুক্ত হয়। এই তত্ত্বটি হলো সাম্রাজ্যবাদ। মার্ক্স সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে তত্ত্ব প্রণয়ন করেননি; এই তত্ত্বের জন্ম হয়েছে লেনিন, রোজা লুক্সেমবার্গ ও হবসনের মতো বামপন্থী দার্শনিকদের হাতে। সাম্রাজ্যবাদী তত্ত্বের বক্তব্য ছিল যে পুঁজিবাদ তার উৎপাদনশীলতার ফলে টিকে নেই; এ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে ঔপনিবেশিক শোষণের মাধ্যমে। যখন উপনিবেশগুলো সাম্রাজ্যবাদের শোষণ থেকে মুক্ত হবে, তখন পুঁজিবাদী বিশ্বেও পুঁজিবাদী ব্যবস্থা টিকে থাকবে না। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে সাম্রাজ্যবাদী শাসনের অবসান ঘটে, কিন্তু পুঁজিবাদী দেশগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকে।

এ ঘরানার অর্থনীতিবিদেরা বলেন যে সাম্রাজ্যবাদ তত্ত্ব ছিল ভুল, মার্ক্স সাম্রাজ্যবাদ তত্ত্বের উদ্ভাবন করেননি। সুতরাং বিশ শতকে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ব্যর্থতার জন্য মার্ক্সকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।

তৃতীয় ঘরানার সমালোচকেরা বলেন, সমাজবিপ্লব সম্পর্কে মার্ক্সের যে বক্তব্য, তাতে কিছু ক্ৰটি রয়েছে। মার্ক্সের বক্তব্য ছিল যে শোষক ও শোষিতের প্রত্যক্ষ সংগ্রামের মাধ্যমে ইতিহাসের ধারা নিয়ন্ত্রিত হবে। এ সংগ্রামে সর্বহারা শ্রেণি পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সব শোষিত মানুষকে একত্র করে তুলছে। মার্ক্স মনে করতেন, সব শোষিত মানুষই হচ্ছে সমজাতীয় (homogeneous), এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কাজেই এদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা মোটেই দুরূহ নয়। এ ধারণা সত্য নয়।

মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে শুধু সামাজিক একক বন্ধন (mono-sociality) দেখা যায়। একটি হাতি শুধু একটি পালের সদস্য, একটি পাখি শুধু একটি ঝাঁকের অংশ। কিন্তু পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মানুষের সমাজে রয়েছে বহুবিদ বন্ধন (multisociality)। পল্লি অঞ্চল হতে উৎপাটিত একজন ছিন্নমূল মানুষ শুধু কারখানার শ্রমিক নন, তাঁর ধর্মীয় সত্তা রয়েছে, তাঁর ভাষাগত সত্তা রয়েছে, তার আঞ্চলিক সত্তা রয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকেরা নানা ভাষায় কথা বলেন। একই ভাষার শ্রমিকের মধ্যে একধরনের বন্ধন থাকে। আবার শ্রমিকদের মধ্যে ধর্মের বিভিন্নতা থাকে। একই ধর্মের মধ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায় রয়েছে। কাজেই শ্রমিকেরা ভিন্ন ভিন্ন উপাসনালয়ে যান। তাই শ্রমিকদের সামাজিক বন্ধনে পার্থক্য ঘটে। সব শ্রমিক সমজাতীয় নন, তারা বহুজাতীয়। বহুজাতীয় জনগোষ্ঠীর সংগঠন সহজ নয়। এদের মধ্যে তাই দেখা দেয় নানাবিধ অন্তৰ্দ্ধন্দ্ব।

ভাষার ভিন্নতার জন্য বিহারি-বাঙালি শ্রমিকেরা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করেন, ধর্মের ভিন্নতার জন্য হিন্দু-মুসলমান শ্রমিকেরা একে অপরকে হামলা করেন। এমনকি জেলার ভিন্নতার জন্য, অথবা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভিন্নতার (যথা শিয়া/সুন্নি) জন্য হানাহানি দেখা দেয়। তাই শোষিত শ্রেণি সম্মিলিতভাবে শোষকদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে নিজেরাই অন্তৰ্দ্ধন্দ্বে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে সর্বহার শ্রেণির একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না।

মার্ক্স অনুমান করেছিলেন যে অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত শ্রেণির কাছে শোষণই সবচেয়ে বড় সমস্যা। কাজেই অন্য সব সামাজিক সত্তা সর্বহারাদের শ্রেণিচেতনায় হারিয়ে যাবে। কিন্তু মার্ক্সের এ অনুমান মোটেও সঠিক নয়। দীর্ঘদিনের সমাজতান্ত্রিক নিরীক্ষার পর আজও সার্বিয়ার শ্রমিকশ্রেণি বসনিয়ার শ্রমিকশ্রেণির ওপর আক্রমণ সমর্থন করছে। সোভিয়েত রাশিয়া অথবা চীনে ধর্মীয় বা আঞ্চলিক জাতীয় চেতনা কোনোটাই হারিয়ে যায়নি।

দ্বিতীয়ত, মার্ক্স সমাজে মাত্র দুটি শ্রেণির অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন : শোষকশোষিত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সব শ্রেণিকেই দুটি শ্রেণির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। মার্ক্সীয় তত্ত্বে তাই অন্তর্বতী (Intermediate) শ্রেণির অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়েছে। অন্তর্বতী শ্রেণির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দক্ষ কারিগর শ্রেণি (Artisan), ক্ষুদ্র নিয়োগকারী (Small employer), পাতি বুর্জোয়া, কারখানাতে তত্ত্বাবধানকারী ব্যবস্থাপক এবং পেশাভিত্তিক মধ্যবিত্ত শ্রেণি। মার্ক্স মনে করতেন, শ্রেণিসংগ্রামের মেরুকরণের প্রক্রিয়াতে অন্তর্বর্তী শ্রেণিসমূহ শোষক বা শোষিত শ্রেণির মধ্যে আত্মীভূত হয়ে যাবে, কোনো স্বতন্ত্র অস্তিত্ব থাকবে না। প্রকৃতপক্ষে অন্তর্বর্তী শ্রেণি মুছে যায়নি, ইতিহাসের প্রক্রিয়াতে আরও শক্তিশালী হয়েছে।

মার্ক্স অনুমান করেছিলেন, পুঁজিবাদী ব্যবস্থাতে বেশির ভাগ কর্মসংস্থান হবে প্রক্রিয়াজাত শিল্পে মজুরিভিত্তিক কাজে। প্রকৃতপক্ষে এ অনুমান সঠিক হয়নি। বেশির ভাগ মানুষ প্রক্রিয়াজাত শিল্পে কাজ করে না, কাজ করে সেবা খাতে এবং এদের অনেকেই শ্রমিক নয়। এরা বেশির ভাগ স্বকৰ্মসংস্থানে নিয়োজিত। ১৯৯০ সালে শিল্পোন্নত দেশসমূহে ৩০ শতাংশ শ্রমিক শিল্পে কাজ করেন, ৬০ শতাংশ শ্রমিক কাজ করেন সেবা খাতে আর ১০ শতাংশ কাজ করেন কৃষি খাতে। সেবা খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উন্নত দেশসমূহের ট্রেড ইউনিয়নের গুরুত্ব অনেক কমে গেছে। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৫—এই দশকে শিল্পোন্নত দেশসমূহের মোট শ্রমশক্তিতে ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যসংখ্যার অনুপাত ৪২ শতাংশ থেকে ৩৬ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।

তৃতীয়ত, মার্ক্স শুধু কারখানার মালিকদের শোষণ নিয়ে আচ্ছন্ন ছিলেন না, তিনি ধনীদের ওপর গরিবদের শোষণ নিয়ে লিখেছেন। কিন্তুদরিদ্ররাও যে দরিদ্রদের শোষণ করে, সে কথা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন। দরিদ্ররা সবাই সমশ্রেণির নয়, এর ফলে দরিদ্রদের শুধু ধনীরাই শোষণ করে এ কথা সত্য নয়, অপেক্ষাকৃত সচ্ছল দরিদ্ররাও শোষণ করে। মার্ক্স বিশ্বাস করতেন, সমাজে একটি স্তরে শোষক আর শোষিতেরা জীবন-মরণ সংগ্রামে লিপ্ত। কিন্তু তিনি লক্ষ করেননি, সমাজের স্তরে স্তরে শোষক আর শোষিতের সংঘর্ষ চলছে। এক স্তরে যিনি শোষক, পরবর্তী স্তরে তিনিই শোষিত। তাই সমাজে সর্বহারা শ্রেণিচেতনা ঘনীভূত হতে পারে না।

মার্ক্স সমাজে মাত্র দুটি শ্রেণির অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন : শোষক ও শোষিত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সব শ্রেণিকেই দুটি শ্রেণির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। দরিদ্ররাও যে দরিদ্রদের শোষণ করে, সে কথা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন।দরিদ্ররা সবাই সমশ্রেণির নয়, এর ফলে দরিদ্রদের শুধু ধনীরাই শোষণ করে এ কথা সত্য নয়, অপেক্ষাকৃত সচ্ছল দরিদ্ররাও শোষণ করে।

বাংলাদেশে শ্রমিকশ্রেণি ভূমি সংস্কারের বিরোধিতা করে। মার্ক্সের ব্যাখ্যা অনুসারে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক খাতে নিযুক্ত শ্রমিকেরা সর্বহারা শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এরা বিশেষ সুবিধাভোগী সামাজিক গোষ্ঠী। কৃষি অথবা অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের তুলনায় আনুষ্ঠানিক খাতে নিযুক্ত শ্রমিকদের আয় অনেক বেশি। এর ফলে অনেক শ্রমিকের পক্ষেই মজুরির টাকা জমিয়ে গ্রামে ভূসম্পত্তি কেনা সম্ভব হয়। এ প্রসঙ্গে ড. কামাল সিদ্দিকী ও তার সহকর্মীদের ঢাকা শহরের আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের শতকরা আর্থসামাজিক অবস্থান সম্পর্কে সমীক্ষায় সংগৃহীত তথ্যাদি স্মরণ করা যেতে পারে।

ঢাকা শহরে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের শতকরা ৮০ ভাগের গ্রামে ভিটা ও জমি রয়েছে। যাঁদের জমি আছে, তাঁদের গড় জমির পরিমাণ ১.৩ একর। তাঁদের বেশির ভাগই গ্রামে ভাগচাষি অথবা ভূমিহীন শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করান। ১৯৮৮ সালের বাজারমূল্যে তাঁরা প্রত্যেকে গ্রামের ভূসম্পত্তি থেকে গড়ে বছরে ৪ হাজার টাকা আয় করেন। আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত অধিকাংশ শ্রমিকই হলেন গ্রামাঞ্চলে অনুপস্থিত ভূস্বামী। শহরে তাঁরা মালিকদের বিপক্ষে স্লোগান দিলেও তাঁদের অবস্থান ভাগচাষি ও ভূমিহীন শ্রমিকদের বিপক্ষে। এ ধরণের সমাজব্যবস্থাতে সর্বহারার চেতনা দানা বেঁধে উঠতে পারেনি।

কারণ যা-ই হোক, স্নায়ুযুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা জয়লাভ করেনি। এর অর্থ এই নয় যে সমাজতন্ত্রের যে স্বপ্ন তা-ও মুছে গেছে। সমাজতন্ত্রের মূল স্বপ্ন ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ ও সর্বহার শ্রণির অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন। এ স্বপ্নগুলো যত দিন বাস্তবায়িত না হবে, তত দিন এরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে। অর্থনৈতিক চিন্তার ঐতিহাসিক স্কট যথার্থই বলেছেনঃ

Empire rise and fall; races and nations flourish and then disappear,  preachers of new doctrines are crucified or burnt at the stake, heretical books are destroyed, but basic ideas never die. The culture absorbs them. Like an organism digesting the nutriment essential to its existence, and the elements reappear, time and again, in new forms.

সমাজতন্ত্রের মূল ধারণাসমূহ মৌল ধারণা। কমিউনিজমের আতঙ্ক অপসৃত হলেও এসব ধারণা পরিবর্তিত হবে না। কমিউনিজম মরে গেলেও নতুন করে সমাজতন্ত্রকে আবিষ্কার করতে হবে। ওপরে সমাজতন্ত্রের তাত্ত্বিক বিবর্তন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে এ কথা সুস্পষ্ট যে সমাজতন্ত্রে মত ও পথ নিয়ে কোনো ঐকমত্য নেই। যদি কোনো রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক দল সমাজতন্ত্র বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে তাকে নিজের মতো করে সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

বাংলাদেশে সমাজতন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ

রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসানে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আবির্ভাব, অথচ এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগ, যা সমাজতান্ত্রিক দল ছিল না। পার্টির উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্যাডার ছাড়া সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল না। অথচ ক্ষমতাসীন দলের কোনো সমাজতান্ত্রিক ক্যাডার ছিল না। উপরন্তু আধা সামন্ততান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থা থেকে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার উত্তরণ ছিল একটি জটিল উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে সমাজব্যবস্থার উত্তরণ হবে পর্যায়ক্রমিক। এই প্রসঙ্গে নিম্নলিখিত রণকৌশল নির্ধারণ করা হয় :

Reforms to such an end are needed to be worked out in phases. In landownership, cooperatives among small and landless farmers, in large, heavy and basic industries ascendancy of the public sector, in trade, both domestic and international as well as in housing, transport and distribution, state and cooperatives will largely rule leaving small enterprises in private hands. In such a society, where the functions of the state is usually more than in a welfare state, the public sector perforce will be expanded.৪  

সমাজতান্ত্রিক পুনর্গঠন ছাড়াও পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক উদ্যোগের প্রয়োজন দেখা দেয়। ফলে পর্যায়ক্রমিক উত্তরণের বদলে বাংলাদেশে রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নাটকীয় সম্প্রসারণ ঘটে। ১৯৭০ সালে শিল্প খাতে মোট পরিসম্পদের ৩৪ শতাংশের মালিক ছিল সরকার; ১৯৭২ সালে সরকারি মালিকানার হার ৯২ শতাংশে দাঁড়ায়। এর মধ্যে ৩8 শতাংশ বাংলাদেশ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রের মালিকানায় ছিল; ৪৩ শতাংশ ছিল পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি এবং ১৫ শতাংশের মালিক ছিল বাংলাদেশিরা।

পাট, বস্ত্ৰ, চিনি, লৌহ ও ইস্পাত, প্রকৌশল, জাহাজ নিৰ্মাণ, সার, ওষুধ, রসায়ন, তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ, কাগজ, বনজ শিল্পসহ ২৫৪টি কারখানা জাতীয়করণ করা হয়। এসব খাতে ১৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে এ ধরনের সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়। এ ছাড়া ১ হাজার ১৭৫টি শাখাসহ সব ব্যাংক ও বিমাপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করে।  বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশের জাতীয়করণ করা হয়।

গণখাতের এই অভূতপূর্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্য ছিল তিনটি। প্রথমত, এই ব্যবস্থার ফলে নতুন ধনিকশ্রেণির অভ্যুদয় ঘটে। দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল, এসব খাতের মুনাফা দিয়ে রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থের জোগান দেওয়া। এই লক্ষ্য অর্জনে জাতীয়করণ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ সত্ত্বেও বেশির ভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠান অদক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে বিপুল পরিমাণ লোকসানের বোঝা রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেয়।

অনেক প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণের পরও এবং সরকার থেকে বিপুল পরিমাণ পুঁজি ও ভর্তুকি দেওয়ার পরও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন শিল্পসমূহ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে, কমপক্ষে ৮৮৩ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। বস্তুত এই লোকসানের হিসাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর সব রকম দায়দেনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রকৃত লোকসানের মাত্রা অনেক বেশি। কাজেই জাতীয়কৃত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এর লাভ দিয়ে সমাজতান্ত্রিক পুনর্গঠনের অর্থের সংস্থান করার লক্ষ্য কখনো অর্জিত হয়নি।

পক্ষান্তরে এই সব প্রতিষ্ঠান চালু রাখার জন্য রাষ্ট্রকে অন্য খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যয় করতে হয়েছে। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে জাতীয়করণ করা হয়, সেসব প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু বিপুল পরিমাণ জাতীয় সম্পদের অপচয়ই ঘটায়নি, এই সব খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।

জাতীয়করণের তৃতীয় লক্ষ্য ছিল শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা ও ট্রেড ইউনিয়নকে মেহনতি মানুষের স্বার্থে শক্তিশালী সংগঠনরূপে গড়ে তোলা। দুর্নীতি ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যর্থতার ফলে জাতীয়কৃত শিল্পে শ্রমিকদের স্বাৰ্থ দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থাপকদের সহযোগে শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুট করেন। জাতীয়কৃত  প্রতিষ্ঠানসমূহে ট্রেড ইউনিয়ন মার্ক্সের কল্পিত বিপ্লবের অগ্রদূত হওয়ার পরিবর্তে মনসুর অলসন বর্ণিত ‘বন্টনমূলক কোয়ালিশন (distributional coalition) রূপে আত্মপ্রকাশ করে। এদের কোয়ালিশন স্বল্পসংখ্যক নেতার জন্য অনুপার্জিত মুনাফার ব্যবস্থা করে।

যে সমাজে এ ধরনের কোয়ালিশন প্রাধান্য লাভ করে, সে সমাজে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের অনীহা দেখা দেয়; অলসন এর নাম দিয়েছেন ‘ institutional sclerosis’. জাতীয়কৃত শিল্পসমূহ বাংলাদেশের অগ্রগতির অগ্রদূত না হয়ে ব্যক্তিস্বার্থভিত্তিক প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়।

ব্যাংক জাতীয়করণ করে মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব বিপুল পরিমাণ অনাদায়ী ঋণ সৃষ্টি করে এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেউলিয়া করে তোলে। তথাকথিত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য তাড়াহুড়া করে ক্যাডাবিহীন রাষ্ট্রে জাতীয়করণের যে মহাযজ্ঞ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়, তা শুধু ব্যর্থই হয়নি; তা ভবিষ্যৎ অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করে।

নোটঃ

১. Meghnad Desai, 2002 Marx’s Revenge, London: New York: Verso

২. Kamal Siddiqui et al 1990. Social Formation in Dhaka City, Dhaka: University Press Ltd.

৩. Scott Gordon. 1993. The History and Philosophy of Social Science. London: Routledge.

৪.   Bangladesh Planning Commission. 1974. First Five Years Plan. Dhaka.

৫. Mancur Olsorn,1982. The Rise and Decline of Nations. New Haven. Yale University Press.

[সোর্সঃ আকবর আলি খান, সমাজতন্ত্র : পথের শেষ কোথায়?, অবাক বাংলাদেশঃ বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা, ২০১৭ পৃঃ ১০৯-১২২]

প্রাসঙ্গিক পোস্টঃ

Marx’s Idea was not original but borrowed from materialists thinkers-Milovan Djilas

My Disillusionment with left politics of Bangladesh: testimony of a Bureaucrat

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সমাজতন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে- শাহরিয়ার কবির

বাংলাদেশে বামপন্থী রাজনীতির সুত্রপাত (পর্ব ১),  আপোষ (পর্ব ২), সন্ত্রাসবাদ  (পর্ব ৩), অনুপ্রবেশ (পর্ব ৪), এবং অন্তবিরোধ (৫ম পর্ব)

Facebook Comments

Opinion matters, Please share your opinion