স্বৈরশাসন থেকে গণতন্ত্র-পর্ব ৫ঃ রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস

পর্ব ১ঃ  সহিংস না হয়ে বাস্তবভাবে স্বৈরশাসনের মোকাবেলা  পর্ব ২ঃ সামরিক অভ্যুত্থান বা বিদেশী উদ্ধারকর্তার মাধ্যমে মুক্তি সম্ভব নয় কেন?    পর্ব ৩ঃ  সমঝোতার বিপদ  পর্ব ৪ঃ মুক্তিলাভে সমঝোতা নয় রাজনৈতিক অভ্যুত্থান 

কোথা থেকে ক্ষমতা আসে?

একটা সমাজে স্বাধীনতা এবং শান্তি দুটোই স্থাপন মোটেই সহজ কাজ নয়। এর জন্য দরকার বিরাট কৌশলগত দক্ষতা, সংগঠন এবং পরিকল্পনা। গনতন্ত্রীরা ক্ষমতার সঠিক ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন না করা পর্যন্ত স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করার আশা করতে পারেনা।

কিন্তু কিভাবে সেটা সম্ভব?কি ধরনের ক্ষমতা গণতান্ত্রিক বিরোধীরা সমাবেশিত করতে পারেন যা স্বৈরশাসকের সুবিশাল সামরিক ও পুলিশী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে যথেষ্ট হবে?এই সম্বন্ধে অন্তর্দৃষ্টি শেখা সত্যিই কোন কঠিন কাজ নয়। কিছু মৌলিক সত্য বেশ সহজ হয়।

“বানর মাস্টার” উপকথা

রাজনৈতিক ক্ষমতা ভালভাবে বুঝার জন্য অনেক অবহেলিত একটি রূপরেখা রয়েছে ১৪ শত শতকের চাইনিজ লিও জি এর দৃষ্টান্তে;

সু(Chu)এর সামন্ত রাষ্ট্রে একজন বৃদ্ধ লোক বেঁচে ছিলেন কিছু বানরকে তার সেবায় নিয়োজিত রেখে। সু এর লোকেরা তাকে জু গং(বানরের মাষ্টার)বলে ডাকত।

প্রত্যেকদিন সকালে,ঐ বৃদ্ধ বানরদেরকে তার উঠানে সারি করে দাড় করাত এবং সবচেয়ে বড়টাকে আদেশ করত অন্যদেরকে নিয়ে পাহাড়ের ঝোপঝার এবং গাছ থেকে ফলমুল সংগ্রহ করে আনতে। আইন ছিল যে প্রত্যেক বানর তাদের সংগ্রহের দশভাগের একভাগ বুড়োকে দেবে। যারা এটা করতে ব্যর্থ হবে তাদেরকে নির্মমভাবে পিটানো হত। সকল বানরই ভীষণ ভুক্তভোগী,কিন্তু অভিযোগ করতে সাহস করতনা।

একদিন ছোট্ট একটি বানর অন্য আরেকটি বানরকে জিজ্ঞেস করল; “আচ্ছা,ঐ বুড়া কি সবগুলো গাছ এবং ঝোপঝাড় লাগিয়েছে?” অন্য বানর বলল:”না, এগুলো প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে উঠেছে”।ছোট্ট বানরটি আবার জিজ্ঞেস করল: “আমরা কি ফলগুলো পেতে পারিনা ঐ বুড়ার অনুমতি ছাড়া?”অন্যরা উত্তর দিল: “হ্যাঁ, আমরা সবাই সেটা পারি।”ছোট্ট বানরটি বলেই চলল; “তাহলে আমরা কেন ঐ বুড়ার ওপর নির্ভর করে আছি,আমরা কেন তার সেবা করতে বাধ্য?”

ছোট্ট বানর তার বক্তব্য শেষ করা আগেই, সব বানর হঠাৎ করে আলোড়িত হল এবং জেগে উঠল।

ঐ রাতেই,বৃদ্ধকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখে, বানরেরা সবগুলো খুটির বেড়া ভেংগে ফেলল যেগুলো দিয়ে এতদিন তাদেরকে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পুরো বেড়াটিকে ধুলিস্যাত করে দিল। তারা বৃদ্ধের কাছে গচ্ছিত সকল ফলমুলও নিয়ে নিল এবং সেগুলো নিয়ে বনে চলে গেল। তারা আর কোন দিন ফিরেনি। অবশেষে বৃদ্ধ অনাহারে মারা গেল।

ইউ-লি-জি বলেছেন, “কিছু লোক দুনিয়াতে নিজের লোকদেরকে শাসন করে চালাকির মাধ্যমে,ন্যায়নীতির মাধ্যমে নয়। তারা কি অনেকটা বানরের ঐ মাষ্টারের মত না? তারা তাদের তালগোল পাকান অবস্থা সম্পর্কে সচেতন নয়। যখনই জনগন সচেতন হয়ে উঠে,তাদের চালাকি আর কাজ করেনা।“

রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োজনীয় উৎস

মুলনীতি খুব সহজ। স্বৈরশাসকদের শাসন করার জন্য দরকার মানুষের সাহায্য, এটা ছাড়া তারা তাঁদের রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎসকে নিরাপদ এবং চলমান রাখতে পারেনা। রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎসগুলো হচ্ছে;

  • কর্তৃত্ব, মানুষের মাঝে এমন বিশ্বাস যে এই সরকার বৈধ, এবং তাঁদের নৈতিক দায় হচ্ছে তাকে মেনে চলা;
  • মানব সম্পদ, সংখ্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং গ্রুপ যারা সমিহ করছে, সহযোগিতা করে যাচ্ছে অথবা শাসকে আনুকূল্য দিয়ে যাচ্ছে;
  • দক্ষতা এবং জ্ঞান, শাসকগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট কর্ম সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন এবং তা সরবরাহ করছে সহযোগিতাকারী ব্যক্তিবর্গ এবং গ্রুপেরা;
  • অদৃশ্যমান বিষয়গুলি, মানসিক এবং আদর্শিক বিষয়গুলো যা মানুষকে প্ররোচিত করে শাসন মানতে এবং শাসককে সাহায্য করতে;
  • বস্তুগত সম্পদ, সম্পত্তি,প্রাকৃতিক সম্পদ,আর্থিক সম্পদ, অর্থনৈতিক সিস্টেম এবং যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উপর শাসকদের প্রভাব এবং সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ
  • অবরোধ, শাস্তি, হুমকি অথবা অবাধ্যতা এবং অসহযোগিতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করে অধীনতা এবং সাহায্য নিশ্চিত করন,যা শাসকের টিকে থাকা এবং তাঁদের পলিসি বাস্তবায়নের জন্য দরকার।

এসকল উৎসগুলো, নির্ভর করে শাসকগোষ্ঠীর গ্রহণযোগ্যতার উপর, জনগন কর্তৃক তাঁদের মেনে নেয়া এবং আনুগত্য প্রদর্শন, এবং অগণিত মানুষ ও সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার উপর। এগুলোর কোন নিশ্চয়তা নেই।

পরিপূর্ণ সহযোগিতা, আনুগত্য এবং সমর্থন ক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় উৎসের প্রাপ্যতা বাড়িয়ে দেয় এবং এর ফলে, যেকোন সরকারের শক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে জনগণ ও প্রাতিষ্ঠানিক অসহযোগিতা এসব ক্ষমতার উৎসের অপ্রতুলতা তৈরি করে যার উপর তারা নির্ভরশীল এবং এগুলোর অনুপস্থিতি স্বৈরাচারের শক্তিকে দুর্বল করে দেয় এবং শেষে বিলুপ্ত হয়ে পরে।

স্বভাবত, স্বৈরশাসকেরা তাঁদের মর্জিমাফিক শাসন ক্ষমতার জন্য হুমকি হয় এমন সমস্ত কাজ ও চিন্তার প্রতি স্পর্শকাতর। ফলে, স্বৈরশাসকেরা যারা তাঁদের অবাধ্য হয়, হরতাল করে বা সহযোগিতা করতে অপারগতা দেখায় তাঁদেরকে হুমকি ধামকি দেয় বা শাস্তি দেয়। নির্যাতন, এমনকি নৃশংসতা, সবসময় শাসন চালনার জন্য তাঁদের প্রয়োজনমাফিক সহযোগিতা বা আনুগত্য নিশ্চিত করতে পারেনা।

যদি, নির্যাতন সত্ত্বেও,ক্ষমতার উৎস সীমিত অথবা যথেষ্ট সময়ের জন্য ছিন্ন করে দেয়া যায়, তাহলে স্বৈরশাসকের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং হতাশা দেখা দিতে পারে। এর ফলাফল হচ্ছে স্বৈরাচারের ক্ষমতা পরিষ্কার ভাবে দুর্বল হয়ে পরবে। সময়ের সাথে সাথে, ক্ষমতার উৎস কেটে দেয়ার ফলে শাসকগোষ্ঠীর  কর্মশক্তি লোপ পেয়ে অক্ষম হয়ে পরবে, গুরুতর ক্ষেত্রে ভেঙেও পড়তে পারে। স্বৈরশাসকের ক্ষমতা শেষ হবে ধীরে ধীরে বা দ্রুত এবং সেটা হবে রাজনৈতিক অনাহার থেকেই।

কোনো সরকারে স্বাধীনতা বা স্বৈরশাসনের মাত্রা নির্ভর করে আপেক্ষিকভাবে শাসিতের নিজেদেরকে মুক্ত হওয়ার বাসনা থেকে এবং তাঁদেরকে ক্রীতদাস বানানোর প্রচেষ্টা প্রতিহত করার ক্ষমতার উপর।

জনপ্রিয় মতের বিপরীত বক্তব্য হচ্ছে এই যে, এমনকি সর্বগ্রাসী স্বৈরশাসনগুলোও জনগন এবং সমাজের উপর নির্ভরশীল যাদেরকে তারা শাসন করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কার্ল ডব্লিউ ডাস যেমনটা বলেছেন ১৯৫৩ সালে;

সর্বগ্রাসী ক্ষমতা শক্তিশালী হয় শুধুমাত্র যদি এটা প্রায়ই ব্যবহার করা না লাগে। যদি সর্বগ্রাসী ক্ষমতা পুরো জনগোষ্ঠীর উপর সবসময় ব্যবহার করা লাগে তাহলে সেটা খুব বেশি সময় শক্তিশালী থাকেনা।যেহেতু সর্বগ্রাসী সরকারের অন্য ধরনের সরকারের চেয়ে আরো বেশি ক্ষমতা দরকার পরে শাসিতদের মোকাবেলা করার জন্য, সেহেতু তাঁদেরকে আরো ব্যাপক এবং নির্ভরযোগ্য মানুষের দরকার হয় যারা শাসকের সম্মতিতে অভ্যস্ত।এই সংখ্যাটা সরকার সমর্থক সক্রিয় কর্মির তুলনায় আরো বেশি দরকার জনগণের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ থেকে যারা প্রয়োজনে কাজে লাগবে।

১৯ শতকের ইংলিশ আইন বিষয়ক তাত্ত্বিক জন অস্টিন একজন স্বৈরশাসক কিভাবে অসন্তুষ্ট জনগণকে মোকাবেলা করে তার বর্ননা দিয়েছেন। অস্টিনের মত হচ্ছে এই যে, যদি অধিকাংশ জনগন সরকারকে ধ্বংস করতে আত্নবিশ্বাসী হয় এবং সেটা করতে নির্যাতন সহ্য করতে রাজি থাকে, তাহলে সরকারের শক্তি এবং যারা তাকে সমর্থন করে ঘৃণিত ঐ সরকারকে রক্ষা করতে পারেনা,এমনকি যদি সে সরকার বিদেশী সাহায্যপুষ্টও হয়। প্রতিবাদী জনতাকে শক্তি দিয়ে চিরস্থায়ী আনুগত্য এবং পরাধীনতায় আটকে রাখা যায়না।

নিকলো ম্যাকিয়াভেলী বহু আগেই মত দিয়েছেন যে, যে রাজার“…. এমন জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা সামগ্রিকভাগে তার শত্রু সে কখনোই নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারেনা, এবং তার নিষ্ঠুরতা যত বেশি হয়, তার শাসন তত দুর্বল হয়ে পরে।”১০

এই অর্ন্তদৃষ্টির ব্যবহারিক রাজনৈতিক বাস্তবায়ন দেখিয়েছিল নরওয়ের বীর প্রতিরোধকারীরা দখলদার  নাৎসিদের বিরুদ্ধে, এবং যেমনটা আলোচিত হয়েছে ১ম অধ্যায়ে, সাহসী পোল্যান্ডের জনগণ, জার্মান,চেক, স্লোভাকিয়ান এবং অন্য আরো অনেকে যারা আগ্রাসী কমিউনিস্ট স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে লড়েছে এবং ইউরোপে কমিউনিস্টদের পতনে সাহায্য করেছে।এই প্রবণতা অবশ্যই নতুন কিছু নয়ঃ অহিংস সংগ্রামের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় অন্তত খৃষ্টপূর্ব ৪৯৪ সময়ে এর অস্তিত্ত্ব বিদ্যমান ছিল।যখন প্রাচীন রোমের প্লেবিয়ান জনগোষ্ঠী তাঁদের উপর কর্তৃত্ত্বকারী পেট্রিসিয়ানদের সহযোগিতা করা বন্ধ করে দেয়।১১ অহিংস সংগ্রামকে অবলম্বন করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে এশিয়ায়, আফ্রিকায়, আমেরিকাতে, অস্ট্রেলিয়ায় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে, এমনকি ইউরোপেও।

৩ টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর নির্ধারিত হয় একটি সরকারের ক্ষমতা কতটুকু নিয়ন্ত্রিত বা অনিয়ন্ত্রিত হবে; (১)সরকারের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রনের জন্য জনগণের আপেক্ষিক আকাঙ্ক্ষা;(২)শাসিত জনগোষ্ঠীর স্বাধীন সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতার উৎস থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমর্থন প্রত্যাহারের আপেক্ষিক শক্তি; এবং (৩)জনগণের নিজেদের সম্মতি এবং সহায়তা ঠেকিয়ে রাখার আপেক্ষিক সক্ষমতা।

গণতান্ত্রিক শক্তি কেন্দ্র

গণতান্ত্রিক সমাজের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সেখানে রাষ্ট্র থেকে স্বাধীন বহুমুখী বেসরকারি বিভিন্ন গ্রুপ এবং প্রতিষ্ঠান থাকে।উদাহরণ সরূপ, পরিবার, ধর্মীয় সংগঠন, কালচারাল এসোসিয়েশন, খেলার ক্লাব, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক ইউনিয়ন, ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক দল, গ্রাম, প্রতিবেশী এসোসিয়েশন, বাগান করার ক্লাব, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান, সংগীত গ্রুপ, সাহিত্য সমাজ ইত্যাদি। এসব সংস্থাগুলো খুবই গুরুত্ত্বপুর্ন তাঁদের নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য এবং সামাজিক বিভিন্ন চাহিদা মেটাতেও সাহায্য করে।

উপরন্ত, এই সংস্থাগুলোর রাজনৈতিক ভুমিকাও তাৎপর্যপূর্ণ। তারা মানুষকে বিভিন্ন গ্রুপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রদান করে যার মাধ্যমে জনগণ সমাজের গতিপ্রকৃতির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং তাঁদের স্বার্থ,কার্যক্রম বা উদ্দেশ্যের উপর অন্যান্য গ্রুপ বা সরকারকে অন্যায়ভাবে চড়াও হতে দেখলে প্রতিহত করে।বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিবর্গ, যারা ঐসব গ্রুপের সদস্য নয় স্বাভাবিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনা সমাজের উপর,সরকারে আরো অনেক কম, স্বৈরশাসনের বেলায় তো প্রশ্নই আসেনা।

যাই হোক, যদি সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাহিরের নাগরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীনরা ধরে রাখা যায় অথবা পুনরুদ্ধার করা যায় তাহলে রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের জন্য তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পূর্বোল্লিখিত উদাহরণ গুলোয় যেখানে স্বৈরশাসনের পতন বা দুর্বল হয়ে পরার ঘটনা ঘটেছে তার একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জনগণ ও তাঁদের প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক অবাধ্যতার(অভ্যুত্থান) ব্যাপক সাহসী প্রয়োগ।

যেমনটা বর্নিত হয়েছে, ক্ষমতার এই উৎসগুলো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেয় যেখান থেকে জনগণ চাপ প্রয়োগ করে এবং স্বৈরাচারী প্রভাবকে প্রতিহত করে। ভবিষ্যতে, তারা স্বাধীন-মুক্ত সমাজ কাঠামোর একটি অপ্রতিরোধ্য অংশ হবে।ফলে, তাঁদের অব্যাহত স্বাধীনতা ও বৃদ্ধি স্বাধীনতা আন্দোলনে সফলতার একটি পুর্বশর্ত।

যদি স্বৈরশাসক সমাজের স্বাধীন সংস্থাগুলো ধ্বংস করতে সফল হয় বা আয়ত্ত্বে নিয়ে নেয়, প্রতিরোধকারীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে নতুন স্বাধীন সামাজিক গ্রুপ এবং প্রতিষ্ঠান তৈরি করা এবং বেঁচে যাওয়া বা আংশিক আয়ত্ত্বে থাকা সংস্থাগুলোতে গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

১৯৫৬-১৯৫৭ সালের হাঙ্গেরিয়ান বিপ্লবের সময় একটি বহুমুখী গণতন্ত্র কাউন্সিল আবির্ভূত হয়, এমনকি তারা একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কয়েক সপ্তাহের জন্য পুরো জোটবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও শাসন ব্যবস্থার সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করে। পোল্যান্ডে, ১৯৮০ সালের শেষ দিকে কর্মজীবিরা বেআইনি সংহতি ইউনিয়ন চালিয়ে যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকার নিয়ন্ত্রিত, কমিউনিস্ট অধ্যুষিত শ্রমিক সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়।এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতিগুলোর রয়েছে খুব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ফলাফল।

তবে, এর মানে অবশ্যই এটা নয় যে স্বৈরশাসকদেরকে ধ্বংস বা দুর্বল করা খুব সহজ,এটাও নয় যে সব প্রচেষ্টা সফল হবে। এর মানে কখনই এটা না যে আন্দলন সংগ্রাম হবে হতাহত মুক্ত, যারা এখনো স্বৈরশাসকের সেবায় নিয়োজিত তারা পাল্টা আক্রমণ করতে পারে জনগণকে সরকারের আনুগত্য ও সহযোগিতায় ফিরিয়ে নিতে।

ক্ষমতার ব্যাপারে উপরোক্ত অন্তর্দৃষ্টি মানে হচ্ছে যে, সুচিন্তিতভাবে স্বৈরতন্ত্রের ভাঙন সম্ভব। বিশেষ স্বৈরতন্ত্রের রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য যা তাদেরকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে দেয় যদি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয় রাজনৈতিক অভ্যুত্থান। চলুন আমরা এমন কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।

নোটঃ

[৭] This story, originally titled “Rule by Tricks” is from Yu-li-zi by Liu Ji (1311-1375) and has been translated by Sidney Tai, all rights reserved. Yu-li-zi is also the pseudonym of Liu Ji. The translation was originally published in Nonviolent Sanctions: News from the Albert Einstein Institution (Cambridge, Mass.), Vol. IV, No. 3 (Winter 1992-1993), p. 3.

[৮] Karl W. Deutsch, “Cracks in the Monolith,” in Carl J. Friedrich, ed., Totalitarianism (Cambridge, Mass.: Harvard University Press, 1954), pp. 313-314

[৯] John Austin Lectures on Jurisprudence or the Philosophy of Positive Law (Fifth edition, revised and edited by Robert Campbell, 2 vol., London: John Murray, 1911 [1861]), Vol. I, p. 296.

[১০] Niccolo Machiavelli, “The Discourses on the First Ten Books of Livy,” in The Discourses of Niccolo Machiavelli (London: Routledge and Kegan Paul, 1950), Vol. I, p. 254

[১১] See Gene Sharp, The Politics of Nonviolent Action (Boston: Porter Sargent, 1973), p. 75 and passim for other historical examples.

(চলবে)

Facebook Comments