উপনিবেশবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও বাংলা ভাগ (পর্ব-১০)

লিখেছেনঃ নুরুল কবির, সম্পাদক  নিউ এইজ

আগের পর্বঃ   পর্ব-১   পর্ব-২  পর্ব-৩  পর্ব-৪  পর্ব-৫পর্ব-৬  পর্ব-৭  পর্ব-৮  পর্ব-৯

মুসলিমদের অনেকে, বিশেষ করে মুসলিম লীগের তরুণ কর্মীরা যারা কলকাতা এবং পাটনায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হিন্দুদের ক্ষোভ থেকে মুসলমানদের রক্ষায় বহু চেষ্টা করে গেছেন, তারা গান্ধীর উপর ক্ষুব্ধ হন। কারণ, দাঙ্গার সময় ওই দুই শহরে যেতে গান্ধী উদাসীনতা দেখিয়েছিলেন। এমন ক্ষুব্ধ তরুণ মুসলিম লীগ কর্মীদের মধ্যে একজন ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি পরবর্তীতে পূর্ব বাঙলা, এবং বর্তমানের বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন করার মাধ্যমে এই ভূখন্ডের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদে পরিণত হন।

১৯৪৬ সালে কলকাতায় সংঘটিত দাঙ্গা, মুসলিম বাঙালীই যার শিকার সবচেয়ে বেশি, শুঁকুনে খাচ্ছে মানুষের লাশ
১৯৪৬ সালে কলকাতায় সংঘটিত দাঙ্গা, মুসলিম বাঙালীই যার শিকার সবচেয়ে বেশি, শুঁকুনে খাচ্ছে মানুষের লাশ

যদিও ইতিহাসে দেখা যায়, গান্ধী সোহরাওয়ার্দীর সক্রিয় সমর্থনে দাঙ্গা পরবর্তী কলকাতায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপনে বেশ কিছু সফল চেষ্টা চালিয়েছেন। সেসময় এক ঈদের দিনে শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার এক ফটোগ্রাফার বন্ধু মিলে নাঙ্গলডাঙ্গায় অবস্থান করা গান্ধীকে বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ একটি উপহার দিয়েছিলেন। উপহারটি ছিল একটি প্যাকেটে মোড়া অবস্থায় কলকাতা এবং পাটনায় হিন্দুদের নৃশংসতার শিকার কিছু মুসলমানের ছবি। শেখ মুজিবের ভাষ্যমতে, সেসব ছবির মধ্যে কোনোটি ছিল স্তন কেটে দেয়া মুসলমান নারীর, মস্তক বিচ্ছিন্ন শিশুর, জ্বলন্ত মসজিদের, আবার কোনোটিতে দেখা যাচ্ছিল রাস্তায় পড়ে থাকা লাশ। এরকম আরো অনেক নৃশংসতার দৃশ্য ছিল।’ গান্ধীকে এ ধরনের উপহার’ দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শেখ তার স্মৃতিগ্রন্থে লিখেছেন, আমরা মহাত্মাকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে, তার সম্প্রদায়ের লোকজন কী ধরনের অপরাধ করেছে এবং কিভাবে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে  [শেখ মুজিবুর রহমান, অসমাপ্ত আত্মজীবনী (অনুবাদ), ড. ফখরুল আলম, ইউপিএল, ঢাকা, ২০১২, পৃষ্ঠা ৮৬]

bangabandhu_ph

এক্ষেত্রে অবশ্য উল্লেখ করার মতো আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওই সময় (দাঙ্গার সময়) জিন্নাহও নোয়াখালী, কলকাতা বা পাটনা কোথাও সফর করেননি। বরং যখন বিহারে হত্যাকান্ডের খবর এসে পৌঁছায় তখন তিনি ঠাণ্ডা মাথায়’বলেছিলেন, নিরিহ মুসলমানদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। বিশ্ব এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে যে, ভারতের সমস্যা সমাধানে দেশভাগই একমাত্র সমাধান’ [দেখুন ২নং ফুটনোট, কামরুদ্দীন আহমদ, প্রাগুক্ত, পষ্ঠা ৭৩, আরো দেখুন আবুল হাশিম, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৩৭]।

তবে নেহরু এক্ষেত্রে নিজেকে আলাদা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি শুধু বিহার সফর করেননি, বরং সেখানে নতুন করে মুসলিম হত্যা বন্ধ করতে নিজের জীবনের ঝুঁকি’ নিয়েছেন। সোহরাওয়ার্দী তার স্মৃতিচারণায় লিখেছেন, এটা পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর কৃতিত্ব যে, বিহারে বিক্ষুব্ধ হিন্দুদের সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর সাহস তিনি করেছিলেন এবং তাদেরকে সহিংসতা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে (বলেছিলেন); অন্যথায় তিনি তাদেরকে গুলি করবেন’ [মোহাম্মদ এইচআর তালুকদার সম্পাদিত, মেমোয়ার্স অব হোসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উইথ অ্যা ব্রিফ অ্যাকাউন্ট অব হিজ লাইফ এন্ড ওয়ার্ক, ইউপিএল, ঢাকা, ১৯৮৭, পৃষ্ঠা ১০৫-১০৬]।

কলকাতার হত্যাকান্ড-পূর্ব বাঙলার মুসলিমদের মনে এক গভীর দাগ ফেলেছিল। এর ফলে তাদের রাজনৈতিক চেতনায় পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার একটা মনোভাব তৈরি হয়েছিল। এবং ১৯৪৭ সালে হিন্দুমহাসভা এবং কংগ্রেস কর্তৃক ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে বাঙলা ভাগের যৌথ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়তে এই মনোভাবই মুসলমানদেরকে বিরত রেখেছিল।

দুর্ভিক্ষের মর্মান্তিক স্মৃতি

আবার, ১৯৪৩ সালের ভয়ংকর দুর্ভিক্ষের স্মৃতিও পূর্ব বাঙলার মুসলমানদেরকে কলকাতা ভিত্তিক হিন্দু অভিজাত শ্রেণীর রাজনৈতিক প্রজেক্টের (ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাঙলা ভাগ) বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্যভাবে দাঁড়াতে নিরুৎসাহ দিয়েছে। কারণ, ওই ভয়ংকর দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ছিল পূর্ব বাঙলার দরিদ্র মসুলমানরা। ইতিহাসে ‘বাঙলার মহাদুর্ভিক্ষ’ হিসেবে পরিচিত ওই দুর্ভিক্ষে বাঙলার মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের দুই ভাগই কমবেশি সরাসরি ভুক্তভোগী হয়েছিল।

1943 femine 2
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের চিত্র

১৯৪৫ সালে সরকারিভাবে প্রকাশিত দুর্ভিক্ষ অনুসন্ধান কমিশনের’ রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুর্ভিক্ষে বাঙলার আনুমানিক ১৫ লাখ মানুষ মারা গেছেন। কিন্তু কমিশনের একজন সদস্য ডব্লিউ আর একরয়েড পরে স্বীকার করে বলেন যে, এই সংখ্যা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম ছিল। কারণ, কমিশন তখন রাস্তার পাশে মরে পড়ে থাকা মানুষদের সংখ্যা আমলে নেয়নি। [ডব্লিউ আর একরয়েডকে অমর্ত্য সেন তার  পোভার্টি এন্ড ফেমিন: অ্যান এ্যাসে অন এনটাইটলমেন্ট এন্ড ডিপ্রাইভেশন-এ উদ্ধৃত করেছেন, দশম সংস্করণ, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, নিউ দিল্লী, ২০০৬, পৃষ্ঠা ৫২]। যদিও ১৯৪৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত স্যাম্পল সার্ভে’র মাধ্যমে তৈরি কলকাতা ইউনিভার্সিটির একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে বাঙলায় ৩৫ লাখের চেয়েও বেশি মানুষ মারা গেছেন [দেখুন- অ্যাপেন্ডিক্স, অমর্ত্য সেন, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৯৭]।

‘অ্যাগ্রেরিয়ান বেঙ্গল’ নামক বইয়ের লেখক ইতিহাসবিদ সুজাতা বসু লিখেছেন, ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে পূর্ব বাঙলার কৃষক সমাজ এমন খাদ্যাভাবে পড়েছিল যা নিকট ইতিহাসে দেখা যায়নি। অথচ তাদের সামগ্রিক কোনো প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ ছিল না। ১৯৪৩ এর শুরুর দিকে দুর্ভিক্ষের প্রথম নিদর্শন ধরা পড়ে চট্টগ্রামের কয়েকটি জেলায়। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলা, ফেনীসহ নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলা সবচেয়ে ভয়াবহভাবে আক্রান্ত হয়েছিল। ফসল উৎপাদনে পিছিয়ে থাকা এসব জেলার ভূমিহীন ও স্বল্প ভূমির মালিক কৃষকরা গণহারে অভুক্ত থেকেছেন। ৪৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে তারা লাখে লাখে (লেখকের ভাষায় ইন মিলিয়নস’) মৃত্যুবরণ করতে থাকেন  [সুজাতা বসু, অ্যাগ্রেরিয়ান বেঙ্গল: ইকোনোমি সোশ্যাল স্ট্রাকচার এন্ড পলিটিক্স: ১৯১৯-১৯৪৭, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, অরিয়েন্ট লংম্যানের সাথে প্রথম ভারতীয় সংস্করণ, হায়দরাবাদ, ১৯৮৭, পৃষ্ঠা ২১৮]। বুঝাই যাচ্ছে, ভুক্তভোগীরা বেশিরভাগই দরিদ্র মুসলমান ছিলেন। অন্য আরো বহু ইতিহাসবিদের মতো সুজাতাও উল্লেখ করেছেন, কৃষকদের (পূর্ব বাঙলার) বেশিভাগই ছিলেন মুসলিম’ [প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৮৭]।

1943 femine
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের চিত্র

বিশেষভাবে বাঙলার দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণা করা অমর্ত্য সেন লিখেছেন, বাঙলার দুর্ভিক্ষ মূলত একটি গ্রামীণ ঘটনা ছিল। শহুরে এলাকাগুলো, বিশেষ করে কলকাতার শহুরে এলাকা, খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির সময় (সরকারি) ভর্তুকিমূলক প্রকল্পের আওতায় উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্ভিক্ষের কবল থেকে রক্ষিত ছিল। শহুরে লোকজন দুর্ভিক্ষ টের পেয়েছিল আসলে সেখানে গ্রাম থেকে দলে দলে অভুক্ত মানুষের ঢল আসতে দেখে’ [অমর্ত্য সেন, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৬৩]।

১৯৪৩ এর অক্টোবর মাসে কলকাতায় এমন অভুক্ত এবং অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমপক্ষে এক লাখ ছিল।’ মাসের শেষ দিকে কলকাতা শহর থেকে এমন এসব অভুক্ত লোকদের বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দ্য বেঙ্গল ডেস্টিটিউট পারসন্স (রিপেটরিয়েশন এন্ড রিলিফ) অর্ডিনেন্স’ ২৮ অক্টোবর পাশ হয়। এই আইনটি একটি বিতর্কিত আইন হিসেবে পরিচিত। কারণ অভিযোগ করা হয়ে থাকে যে, অভুক্তদের জন্য আইনে উল্লেখিত রিলিফ’ (ত্রাণ) এর ব্যবস্থা করার চেয়ে রিপেটরিয়েশন’ (ফিরিয়ে দেয়া) এর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল বেশি জোরালোভাবে। (খাবারের সন্ধানে আসা) লোকজনকে মূলত কলকাতা শহরের বাইরে স্থাপিত বিভিন্ন ক্যাম্পে’ পাঠিয়ে দেয়া হয়।

যদিও দুর্ভিক্ষের পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল। যেমন, ফসল ঠিক মতো উৎপন্ন না হওয়া এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়া ইত্যাদি। তবে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে খাদ্য পাঠানো ও বিতরণের ক্ষেত্রে মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যা পূর্ব বাঙলার গরীব জনগোষ্ঠির মধ্যে হতাশার জন্ম দেয়। এবং এমনটা হওয়ার পেছনে বিশেষভাবে দায়ী ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অংশ হিসেবে পাশ্ববর্তী বার্মায় জাপানের আক্রমণের প্রেক্ষিতে দিল্লী এবং কলকাতার উপনিবেশি এবং ঔপনিবেশিকতায় আক্রান্ত শাসকদের দ্বারা গৃহীত জনবিরোধী নানা পদক্ষেপ। ১৯৪২ সালের ১০ মার্চ জাপান রেঙ্গুন (বার্মার তৎকালীন রাজধানী) দখল করে নেয়। এর পরপরই পূর্ব বাঙলার কক্সবাজার দিয়ে ভারতে জাপানের সম্ভাব্য হামলার আশংকায় দিল্লীর ব্রিটিশ উপনিবেশি শাসক বাঙলার মুসলিম লীগ সরকারকে (কক্সবাজারের আশপাশের এলাকায়) মাঠশস্যরাস্তাঘাট ধ্বংস করে দেয়ার নীতি গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয় (যাতে শত্রুরা পায়ে অগ্রসর হওয়ার রাস্তায় এমন কিছু না পায় যা তাদের সহায়তা করে)। তখনকার বাঙলার সরকার দিল্লীর নির্দেশ মতো কাজ করার ফলে এ অঞ্চলের খাদ্য সরবরাহ শৃংখলা  মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লাখো মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের চিত্র

তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা এবং বাঙলা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এমএ হাসান ইস্পাহানী লিখেছেন, যুদ্ধ তখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল এবং জাপান দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ক্ষিপ্র গতিতে হামলে পড়ছিল। ইতোমধ্যে বার্মাকে পদানত করার পর জাপান ভারতের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছিল, যার একদিকে ছিল কক্সবাজার অন্যদিকে ইমফল (মনিপুর রাজ্যের রাজধানী) [এমএএইচ ইস্পাহানী, কায়দে আজম জিন্নাহ: অ্যাজ আই নো হিম, ফরওয়ার্ড পাবলিকেশন ট্রাস্ট, করাচি, ১৯৬৬, পৃষ্ঠা ৯১]। এমতাবস্থায় দিল্লীস্থ ব্রিটিশ সরকার বাঙলার প্রাদেশিক সরকারকে অনুরোধ করলো যাতে, হামলা হলে শত্রুর জন্য যথাসম্ভব কম  উপাদান’ বহাল রাখা হয়। এরপরই পূর্ব বাঙলার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌকা হাজারে হাজারে পুড়িয়ে বা ভেঙে ফেলা হয়। ফলে প্রদেশে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিরাট বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়’ [প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৯২]।

পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমান পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন ঘটনার স্মতিচারণ করেছেন এভাবে,  পূর্ব বাঙলার বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করা সৈন্যদের জন্য খাদ্যশস্য এবং অন্যান্য ধরনের সহযোগী খাবার যেমন, ডিম, মুরগী, কলা, নারিকেল, শবজি ইত্যাদি সরবরাহে অগ্রাধিকার ছিল [শেখ মুজিবুর রহমান দুর্ভিক্ষকালীন জনসরবরাহ মন্ত্রী হোসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দী স্বরণে লিখতে গিয়ে ওই সময়কার স্মৃতিচারণ করেন। শেখ মুজিবের প্রবন্ধ  মাই লিডার: অ্যা ম্যাসেঞ্জার অভ পীস’ করাচি ভিত্তিক মর্নিং নিউজ পত্রিকার ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সংখ্যার বিশেষ ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হয়। এছাড়া মোহাম্মদ এইচআর তালুকদারের প্রাগুক্ত বইয়ের ১৯ পৃষ্ঠায়ও শেখ মুজিবের এই উদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে]।

মুজিবুর রহমান একই সাথে তৎকালীন কেন্দ্রীয় কংগ্রেস সরকারের খাদ্যমন্ত্রী শ্রী নিবাসকেও (যিনি সাবেক মন্ত্রী আজিজুল হকের স্থলাভিসিক্ত হয়েছিলেন) দায়ী করেছেন। শ্রী নিবাস সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে মুসলিম লীগ সরকারের প্রতি বিরূপ ভাবাপন্ন ছিলেন। তিনি লিখেছেন, এমনকি টাকার বিনিময়েও খাবার পাওয়া যায়নি।’ইস্পাহানী মনে করেন, এমন অবস্থা (দুর্ভিক্ষ) জাপানের হামলার ভয়ে থাকা ব্রিটিশ সরকারের দ্বারাই তৈরি হয়েছিল। এ কারণেই প্রথমে কিছু এলাকায় এবং পরে সারা প্রদেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।’ [এমএএইচ ইস্পাহানী, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৯২]।

[উৎসঃ নুরুল কবির এর লেখা Colonialism, politics of language and partition of Bengal, ৩৫ পর্বের ধারাবাহিক এর অনুবাদ।লেখক এই সিরিজটি তার সম্পাদিত ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজ পত্রিকায় ২০১৩ সালে প্রকাশ করেন

পরের পর্বঃ উপনিবেশবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও বাংলা ভাগ (পর্ব-১১) 

এই বিষয়ে আরো জানতে আগ্রহীদের জন্য  কিছু লিংকঃ

ভারতের ভুলে যাওয়া গণহত্যা

শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণনায় ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ 

বাংলার দুর্ভিক্ষে চার্চিলের দায়

১৯৪৩ সালের পর বর্তমান বাংলাদেশের মানুষ আবার দুর্ভিক্ষ্য দেখে ১৯৭৪ সালে, সেই সময়ের ভয়াবহতা জানতে দেখুনঃ বাংলাদেশ ১৯৭৪-১৯৭৫, সেইসব দুঃস্বপ্ন

Facebook Comments

6 thoughts on “উপনিবেশবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও বাংলা ভাগ (পর্ব-১০)

Opinion matters, Please share your opinion