উপনিবেশবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও বাংলা ভাগ (পর্ব-১১)

লিখেছেনঃ নুরুল কবির, সম্পাদক  নিউ এইজ

আগের পর্বঃ   পর্ব-১   পর্ব-২  পর্ব-৩  পর্ব-৪  পর্ব-৫পর্ব-৬  পর্ব-৭  পর্ব-৮  পর্ব-৯পর্ব-১০

1943 femine 2
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের চিত্র

এমতাবস্থায় সরকারও জনগণকে খাদ্য-শস্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছিল। এর কারন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইস্পাহানী বলেনঃ ‘অবস্থা খুব খারাপ ছিল এবং প্রদেশে খাদ্যাভাব এত প্রকট ছিল যে প্রদেশের বাহির থেকে ও বিদেশ থেকে বৃহৎ আমদানী ও তাৎক্ষণিক তা বিতরন করা ছাড়া ভূক্তভোগী ও মরণাপন্নদের দুর্ভোগ লাঘব করার আর কোন পথ ছিল না। ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা সাহায্য খুব ধীরগতির ও অপর্যাপ্ত ছিল। যুদ্ধাবস্থা ও সাগরে নিরাপত্তার অভাব বাহির থেকে দ্রুত সাহায্য আসা অসম্ভব করে তুলেছিল। এসময় বাংলার নিকটবর্তী দক্ষিণ এশীয় শস্যভান্ডারগুলো জাপান কর্তৃক অধিকৃত ছিল। আর জাপানের আক্রমণ থেকে বেচে যাওয়া সাহায্য ও জাহাজগুলো নিম্নমানের ছিল যে এগুলো কোন সাহায্যের মধ্যে পড়েনা। পূর্ব বাংলা মূলত বদ্বীপ অঞ্চল আর কেন্দ্রের পোড়ামাটি নীতির কারণে এ অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম জলযানগুলো হাজারে হাজারে ধ্বংস করায় ত্রাণ বিতরণ স্বাভাবিকভাবেই ধীরগতির ছিল’ [এমএএইচ ইস্পাহানী, কায়দে আজম জিন্নাহ: অ্যাজ আই নো হিম, ফরওয়ার্ড পাবলিকেশন ট্রাস্ট, করাচি, ১৯৬৬, পৃষ্ঠা ৯৩]।

এ অবস্থার ফলাফল ছিল অবশ্যম্ভাবী। অমর্ত্য সেন কিছু অফিসিয়াল প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘চালের পাইকারী মুল্য ১৯৪২ সালের ১১ ডিসেম্বর যেখানে প্রতি মণে(প্রায় ৮২.৩ পাউন্ড) ১৩-১৪ রুপী ছিল,  সেখানে ১৯৪৩ সালের মার্চের দিকে তা ২১ রুপী হয়, ২১ মে তে ৩০ রুপীর উপরে চলে যায়, ২০ আগস্টে এর মূল্য ৩৭ রুপিতে বৃদ্ধি পায় (অমর্ত্য সেন, প্রাগুক্ত, পৃ-৫৪)। ড. সেনের মতে চালের প্রকৃত মূল্য এসব প্রতিবেদনে উল্লেখিত মূল্যের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে ছিল। ১৯৪৩ সালের ৫ নভেম্বরের দ্যা স্টেটসম্যান পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন যে চালের দাম বিশেষ করে খুচরা বাজারে অনেক বেশী ছিল, যেমন ১৯৪৩ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে প্রতি মণ চাল ৮০ রূপীতে বিক্রি হচ্ছিল (প্রাগুক্ত, পৃ-৫৫)। খাদ্যদ্রব্যের দাম গ্রামীণ দরিদ্র, বিশেষ করে মুসলমানদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছিল। তাদের একমাত্র বিকল্প ছিল না খেয়ে মরা।

bangabandhu_ph

কলকাতায় তরুণ মুসলীম লীগ কর্মী শেখ মুজিবুর রহমান যিনি সেই দিনগুলোতে ত্রান বিতরণ কাজে অংশ নিয়েছিলেন, তিনি দুর্ভিক্ষের সময়কার ভয়ংকর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তার জীবনীতে বলেন, ‘খাদ্যের অন্বেষণে লাখে লাখে মানুষ শহরের দিকে আসছিল কিন্তু কোন খাবার ছিলনা। ব্রিটিশরা যুদ্ধের জন্য সকল নৌযান তাদের দখলে রেখেছিল। তারা তাদের সৈন্যদের জন্য চাল ও গম মজুদ করে রেখেছিল। যা কিছু বাকী ছিল ব্যবসায়ীরা দখল করে রেখেছিল। এতে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমনিতে যে চাল প্রতি মন দশ টাকায় বিক্রি হত ব্যবসায়ীরা তা চল্লিশ, কখনো বা পঞ্চাশ টাকায় বিক্রি করা শুরু করল। এমন একটি দিনও ছিলনা যেদিন শহরের রাস্তায় মানুষ মরেনি’ (শেখ মুজিবুর রহমান, অসমাপ্ত আত্মজীবনী, অনুবাদ-ড. ফখরুল আলম, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ঢাকা, ২০১২, পৃ-১৭)।

মুজিবুর রহমান আরো বলেন,

‘আমি দুধের বাচ্চাদের রেখে মা’দেরকে রাস্তায় মরতে, ময়লার স্তুপে উচ্ছিষ্ট নিয়ে মানুষের সাথে কুকুরকে মারামারি করতে, ক্ষুধার কারণে মা’দেরকে তাদের বাচ্চাদের পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যেতে অথবা বিক্রি করে দিতে দেখেছি। অনেক সময় তাও করতে পারতো না কারণ কোন ক্রেতা ছিল না। তারা দরজায় ধাক্কা দিয়ে চিৎকার করে বলতঃ ”আমাকে কিছু খাবার দিন, আমি মারা যাচ্ছি, আর থাকতে পারছি না, অন্তত ভাতের কিছু ফ্যান দিন।” অনেক সময় তারা এসব বলতে বলতেই মারা যেত’ (প্রাগুক্ত,পৃ-১৮)।

যদিও বাংলা কংগ্রেসের হিন্দু নেতৃত্ব খাজা নাজিমুদ্দিন আহমেদের প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকার ও ইস্পাহানীদেরকে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি ও এই দূর্যোগ চলাকালীন মানুষকে খাওয়াতে না পারার জন্য প্রকাশ্যে দায়ী করেন। উল্লেখ্য, সেসময় ইস্পাহানীরা ছিল বাংলার প্রধান চাল ব্যবসায়ী। তাদের ফার্ম এম এম ইস্পাহানী লিমিটেডকে জনগনের মধ্যে সরকারের বিতরণের জন্য মজুদকৃত খাদ্যের ঘাটতি পূরণের জন্য বাংলার গভর্নর ও তার পরিষদ কর্তৃক বিহার ও উড়িষ্যার খাদ্য উৎপাদন এলাকাগুলো থেকে চাল ক্রয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। ইস্পাহানী লিমিটেড চাল সংগ্রহের জন্য সরকারের কাছ থেকে কিছু কমিশন নিত।

তবে হাসান ইস্পাহানী স্বজ্ঞানে কোন মানুষের পক্ষে এটা বিশ্বাস করা অযৌক্তিক বলে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন যে ইস্পাহানীরা বরং দুর্ভোগের সময় মানুষকে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন যে সরকারের পক্ষে ইস্পাহানীদের সামগ্রিক ক্রয়ের পরিমাণ মিলিয়ন টনের খাদ্য ঘাটতির সামান্য অংশ ছিল এবং কমিশনও নাম মাত্র আদায় করা হয়। তিনি দাবী করেন কংগ্রেস দুর্ভিক্ষ নিয়ে রাজনীতি করেছে। ‘এমনকি ড. শ্যামপ্রসাদ মুখার্জি ও শরৎচন্দ্র বোসের মত হিন্দু নেতারা একান্তে স্বীকার করেছেন যে তারা একটা রাজনৈতিক বিবাদে ছিলেন যেখানে অস্ত্রের ব্যাপারে কোন বাধ্যবাধকতা ছিলনা’ (এম এ এইচ ইস্পাহানী, প্রাগুক্ত, পৃ-৯৫)। তিনি দাবী করেন প্রকাশ্যে তাদের অযৌক্তিক সমালোচনার কারণে দুর্ভিক্ষ চলাকালীন তিনি ভেঙ্গে পড়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি অবশ্য এই সময়ে চিকিতসার মাধ্যমে তার জীবন বাচানোর জন্য নামকরা চিকিতসক ও শিল্পপতি ড. বিধান চন্দ্র রায়ের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যিনি পরবর্তীতে দেশ ভাগের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

1943
  ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের চিত্র

ঘটনা যাই হোক, এই দুর্ভিক্ষ ৩০ লক্ষেরও বেশী মানুষের প্রাণ নিয়েছিল যাদের অধিকাংশই ছিল কৃষিভিত্তিক পূর্ব বাংলার দরিদ্র মুসলিম। আর এর কারন ছিল খাদ্য, বিশেষ করে ভাতের অভাব। তাছাড়া গ্রামীন দরিদ্র মানুষের প্রথাগত খাদ্যাভ্যাসও মৃত্যুর সংখ্যাবৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল। উল্লেখ আছে যে সেসময়ের বাংলার, বিশেষ করে পূর্ব বাংলার ভাত খাওয়া মানুষ তখন গমই চিনতো না, সেটা থেকে চাপাতি কিংবা ফ্যান বানানো তো দূরের কথা। যখন দুর্ভিক্ষ চলাকালীন সময়ে ব্যাক্তিগত দাতব্য সংস্থা ও সরকারী কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে শহরে ক্ষুধার জালায় মরতে বসা ছিন্নমূল গ্রামীন মানুষের গমের তৈরি খাবার দেয়া হয় তখন তাদের অনেকে বিশেষ করে ছোটরা হজম ও পেটের পীড়ার সমস্যায় ভোগে এবং মারা যায়।

বাংলার মুসলিমরা যে দুর্ভিক্ষের চূড়ান্ত শিকার ছিল এটা দুর্ভিক্ষকালীন সময়ে হাসান ইস্পাহানীর সাথে মুসলিম লীগ প্রধান মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর যোগাযোগ থেকে জানা যায়। ১৯৪৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ইস্পাহানী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে লেখা এক পত্রে মিত্র শক্তির সরকারগুলোকে বসার জন্য এবং বাংলার দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে বোঝানোর জন্য জিন্নাহর প্রতি জোরারোপ করেন। বাংলা ছিল জাপানীদের প্রতিরোধের প্রথম ধাপ এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশগুলোর জন্য বৃহৎ পরিমাণে খাদ্যশস্য ও পণ্য খালাস এর জায়গা। তিনি জিন্নাহকে শেষে এভাবে সতর্ক করেন যে, ‘যারা দুর্গতদেরকে সাহায্য করতে পারে, যাদের মধ্যে ভারত সরকারও রয়েছে, তারা যদি অবিলম্বে সাহায্য না করেন তবে বাংলা একটা কবরস্থানে পরিণত হবে এবং পরবর্তী আদমশুমারীতে যদি প্রদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয় তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না’ (হাসান ইস্পাহানী,প্রাগুক্ত, পৃ-৯৭)।

মুসলমানরা দুর্ভিক্ষের কারণে বাংলায় সংখ্যালঘু হয়ে যায়নি কিন্তু দুর্ভিক্ষের সময় তারা তিক্ত সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে তাতে হিন্দুদের প্রতি তাদের এক ধরণের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের জন্ম নিয়েছে। ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণে মুসলমানদের থেকে অর্থনৈতিকভাবে হিন্দুরা অনেক ভালো অবস্থানে ছিল এবং তুলনামূলকভাবে দুর্ভিক্ষের কারণে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ঔপনিবেশিক বাংলার সামাজিক স্তরবিন্যাস তুলে ধরতে গিয়ে আবুল মনসুর আহমেদ বলেছেন,

‘বাংলার জমিদাররা ছিল হিন্দু আর প্রজারা ছিল মুসলিম, ঋণদাতারা ছিল হিন্দু আর গ্রহীতারা ছিল মুসলিম, ডাক্তাররা ছিল হিন্দু আর রোগীরা ছিল মুসলিম, বিচারকরা হিন্দু আর অভিযুক্তরা মুসলিম, খেলোয়াড়রা ছিল হিন্দু আর দর্শকরা মুসলিম, কারারক্ষীরা হিন্দু আর কারাবন্দীরা মুসলিম, এমন আরো অনেক’ (আবুল মনসুর আহমেদ, প্রাগুক্ত, পৃ-১২৫)।[পড়ুনঃএম আর আখতার মুকুলের লেখা উপনিবেশিক শাসনে মুসলমানদের প্রতি শোষক ইংরেজদের দৃষ্টিভঙ্গি)

বাংলার বিশেষ করে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের রাজনৈতিক অসচেতনতা এই বিষয়টিকে কমই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পেরেছিল। তারা বরং এখানে নিজেদেরকে বিত্তবান হিন্দু ভূস্বামী ও পেশাজীবিদের সাম্প্রদায়িক ব্যবহারের শিকার বলে মনে করত অথচ যেখানে হিন্দু নিম্নশ্রেণীর লোকেরাও দুর্ভিক্ষের সময় অনেকটা অনুরূপ দুর্ভোগ মোকাবেলা করেছে। ফলাফল ছিল অবশ্যম্ভাবী, হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের আরো অবনতি। সুজাতা বসু যথার্থই বলেছেন,’ যুদ্ধাবস্থায় হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক আরো তিক্ত হয়েছিল।’ (সুজাতা বসু, অ্যাগ্রেরিয়ান বেঙ্গল: ইকোনোমি সোশ্যাল স্ট্রাকচার এন্ড পলিটিক্স: ১৯১৯-১৯৪৭, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, অরিয়েন্ট লংম্যানের সাথে প্রথম ভারতীয় সংস্করণ, হায়দরাবাদ, ১৯৮৭, পৃ-২২১)।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের অবস্থাগত দুর্ভোগ ও মানসিক অনিশ্চয়তার এমন সময়ে মুসলিম লীগ তাদের অবস্থান সুসংহত করতে পেরেছিল, কারণ লীগের জন্য মুসলমানদের মধ্যে এক ধরণের সাম্প্রদায়িক রূপ ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছিল। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলমানরা বাংলার ক্ষমতার জন্য শুধু মুসলিম লীগকে ভোটই দেয়নি, বাংলার ভাগ রুখতে মুসলিম লীগ-কংগ্রেসের অসাম্প্রদায়িক এক অংশের নেতৃত্বের যৌথ আহবানেও কর্ণপাত করেনি। বাংলার সুবিধাবঞ্চিত মুসলমানরা প্রায় দুইশ বছর ধরে কার্যত যা মোকাবেলা করেছে তার বিপরীতে নিজ মুসলিম রাষ্ট্রে হিন্দুদের সাথে প্রতিযোগিতা ছাড়াই তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য আকাঙ্খা পোষে আসছে।

    উপনিবেশবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও বাংলা ভাগ (E-বই)

[উৎসঃ নুরুল কবির এর লেখা Colonialism, politics of language and partition of Bengal, ৩৫ পর্বের ধারাবাহিক এর অনুবাদ।লেখক এই সিরিজটি তার সম্পাদিত ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজ পত্রিকায় ২০১৩ সালে প্রকাশ করেন

এই বিষয়ে আরো জানতে আগ্রহীদের জন্য  কিছু লিংকঃ

ভারতের ভুলে যাওয়া গণহত্যা

বাংলার দুর্ভিক্ষে চার্চিলের দায় 

১৯৪৩ সালের পর বর্তমান বাংলাদেশের মানুষ আবার দুর্ভিক্ষ্য দেখে ১৯৭৪ সালে, সেই সময়ের ভয়াবহতা জানতে দেখুনঃ বাংলাদেশ ১৯৭৪-১৯৭৫, সেইসব দুঃস্বপ্ন

Facebook Comments

4 thoughts on “উপনিবেশবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও বাংলা ভাগ (পর্ব-১১)

  1. Pingback: GVK Bioscience
  2. Pingback: roofing contractor
  3. Pingback: DMPK Studies

Opinion matters, Please share your opinion